চুলের যন্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক আজকে আমরা চুলের যন্ত সম্পর্কে  আলোচনা করব। আপনার মনে যদি চুলের যন্ত সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আজকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি চুলের যন্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
চুলের যন্ত বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন
এক রহস্য হচ্ছে চুল নারীদের সৌন্দর্যের । অনেকটাই নির্ভর করে চুলের উপর নিজেকে কিভাবে আপনি সাজাবেন । চুলের সাজের বেলায় সার দেওয়া অসম্ভব হালকা সাজ হোক কিংবা বাইরে চুলের সাজ হোক ।

ভূমিকা

চুলের যত্ন নেওয়া হয় না কাজে ব্যস্ত থাকলে । আবার ভালোভাবে যত্ন নেওয়ার চুলের উপকরণ কেনাকাটা করার অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় । বাড়তি যত্ন অবশ্যই দরকার তারপরও । সবারই চুলের যত্ন নিতে হবে নারী কিংবা পুরুষ , জানার আগ্রহের শেষ নেই চুলের যত্ন নিয়ে আমাদের ।

যে সব কারনে চুল নষ্ট হয়

ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানোঃ ভেজা চুল বেশি দুর্বল থাকে প্রখ্যাত মাকে নিয়ে হেয়ার স্টাইলিস্ট টেড গিপ সান বলেছেন । ভেজা চুল নিয়ে ঘুমালে চুলের ক্ষতি হতে পারে গোসলের ঠিক পর পরে । চুলের ঘর্ষণে রুক্ষ শুষ্ক হয়ে যায় ভেজা অবস্থায় বিছানার সঙ্গে । ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার চুল শুকিয়েছে কিনা যদি রাতে গোসল করে থাকেন । 

চুলে ঝুটি বেঁধে ঘুমানোঃ চুলের ক্ষতি হয় চুলে ঝুটি বেঁধে বা উপরের দিকে চুল বেঁধে ঘুমালে টেড গিবসনের মতে । চুলের গোড়া ভেঙ্গে যায় প্রতি রাতে মাথার ঠিক একই জায়গায় চুল বেঁধে রাখলে । দেরি করে রাখতে পারেন চুল ছেড়ে ঘুমাতে না চাইলে । চুল ভালো থাকবে এতে করে। 

 
চুলে রাবার ব্যান্ড বেঁধে ঘুমানোঃ চুলের জন্য ক্ষতিকর রাবার ব্যবহার করা চুলের রাবার বাধা আরো ক্ষতিকর চুল ভেজা অবস্থায় । ভাজ পরে ভেজা চুলে রাবার বাধলে । নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মাথার সব চুলের উপরে । 

চুল না আচড়ানোঃ ভালো অভ্যাস ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুল আচড়ানো । প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন করে আমাদের চুলের ঘর্ম গ্রন্থি । এই তেল সবখানে ছড়িয়ে পড়তে পারে মাথায় চিরুনি চালালে । দ্রুত বাড়ে চুল এতে । ঘুম ভালো হয় মাথায় চিরুনি চালানো আরামদায়ক বলে । গিব সনের মতে ভালো চুল পাওয়ার অন্যতম শর্ত ভালো ঘুম । আবার চুল আঁচড়ানো বারবার হয়ে গেলে তাতে চুলের ক্ষতি হবে । চুলের তৈলাক্ত পদার্থ যথেষ্ট পরিমাণে ছড়ায় না বেশি বেশি চুল আঁচড়ালে । 

চুলের আদ্রতা বজায় না রাখাঃ যাতে চুলের আদ্রতা বজায় থাকে সেজন্য শ্যাম্পু সকালে । করলে রাতে চলে অন্য কিছু ব্যবহার করুন । সকালে আবার ধুয়ে ফেলবেন রাতে ব্যবহৃত উপাদান টি । বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন-নারীকেল তেল ব্যবহার করার জন্য । এতে চুলের আদ্রতা অটুট থাকে প্রায় আট ঘন্টা । চুল ধুয়ে ফেলতে হবে সকালে ঘুম হতে উঠে ।

যা খেলে অকালে চুল পাকা থামতে পারে

মাথা ভর্তি পাকা চুল দেখা যায় প্রায়ই তরুণ বয়সেও অনেকের । কমতি নেই বিরম্বনার এটা নিয়ে । অনেকে ভোগেন মন কষ্ট নিয়ে । প্রতিদিন কার খাবার অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা সমাধান করতে পারেন । চুল কেন পাকেঃ চুল পাক ধরতে শুরু করে সাধারণত বয়সের সঙ্গে সঙ্গে । চল্লিশ বছর পার হওয়ার পর সেটা তরুণ বয়সে নয় । 

যে পিগমেন্ট সেল আমাদের শরীরের ত্বকের রং নির্ধারণ করে রঞ্জক কণিকা উৎপাদন হয় মেলানিন নামের। চুলের রং কালো হয় এই মেলা নিনের কারনেই । তখন থেকে চুল পাকা শুরু হয় শরীরে যখন মেলানিনের অভাব দেখা দেয় ।মেলানিনের অভাবই হলো চুল পাকার কারণ । এছাড়া ভিটামিনের অভাব দুশ্চিন্তা রাত জাগা বিভিন্ন কারণে শুরু হয় চুল পাকা । 
  • সমাধান কিঃ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করলে অল্প বয়সে চুল পাকার সমাধান হতে পারে । ভিটামিনের অভাব কমাতে বা শরীরের মেলানিনের উৎপাদন বাড়াতে প্রভাব রাখবে যে সব খাবার।
  • শাকঃ মেলানিনের অভাব দূর করে শাক । শাকে আছে প্রচুর ফলিক আসিড । তাই নিয়মিত মেথি বিভিন্ন ধরনের শাক , মোটরশুটি বাধা দেয় চুল পাকতে ।
  • ডিমের কুসুমঃ প্রচুর পরিমাণে বি১২ ভিটামিন রয়েছে ডিমের কুসুমে । ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি১২ স্বাস্থ্যরক্ষা ও বৃদ্ধিতে চুলের । ডিমের কুসুম হতে পারে ভালো সমাধান যদি স্বাস্থ্যগত অন্য কোন সমস্যা না থাকে ।
  • দুধ জাতীয় খাবারঃ দুধ জাতীয় খাবার যেমন ছানা পায়েস , এক গ্লাস খাটি দুধ চুল পাকার আশঙ্কা আপনার কমিয়ে দিতে পারে । পাকার হাত থেকে সুরক্ষা ও চুল শক্ত করে দুধ জাতীয় খাবারের ভিটামিন গুলো ।
  • দুশ্চিন্তা কম করুনঃ দুশ্চিন্তা অসময়ে চুল পাকার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ । চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব কম দুশ্চিন্তা করার । এড়ানো যায় বাড়তি চাপ যতটা ততই ভালো । তত বাড়বে চুল পাকার আশঙ্কা যত বেশি চাপ নেবেন ।

কিভাবে চুলের যত্ন নিবেন

চুল হচ্ছে নারীর সৌন্দর্যের একটি রহস্য । কিভাবে নিজেকে ফুটিয়ে তুলবেন তা নির্ভর করে অনেকটাই চুলের উপর । ভারী সাজ কিংবা হালকা সাজ ছাড় দেওয়া অসম্ভব চুলের বেলায় । যত্ন নেওয়া আবশ্যক চুলের । খাবার যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের শক্তি যোগায় তেমনি শক্তি যোগাতে প্রয়োজন খাবার চুলের । রুক্ষ করে দেয় পুষ্টির অভাবে চুলকে ।
 

পুষ্টির অভাবে চুল পড়া চুলের আগা ফাটা চুল বৃদ্ধি খুশকি জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় পুষ্টির অভাবে । ঘরোয়া যত্নে চুল ফিরে পেতে পারে প্রাণ । চুলের স্টাইল মনের মত করে বেছে নিতে পারেন যেকোনো সাজের সঙ্গে । প্রতিদিনের রুটিনে থাকা কাজ চুলের রুক্ষতার কারণ হতে পারে । দিনের বেলায় লম্বা একটা সময় কর্মস্থলে দিয়ে থাকি আমরা । 

কাজেই আমরা চুলের যত্ন নিতে পারি না সহজে । বাহিরে চলাচলের সময় ধুলাবালি আমাদের সংস্পর্শে চলে আসে । এ কারণে চুলের রুক্ষ হয় এতে করে চুলের আগা ফাটা খুশকির মত সমস্যা দেখা দেয় । দিন দিন চুলের রক্ষতা বেড়ে যায় তাই আমাদের যতটা সম্ভব বাহিরে গেলে চুল খোলা না রাখাটাই ভালো । যাদের চুল অত্যন্ত রুক্ষ তারা নিয়মিত চুল শ্যাম্পু করে নারিকেলের তেলের সঙ্গে ক্যাস্টার ওয়েল মিশিয়ে চুলে মেসেজ করলে চুল পড়া সমস্যা দূর হয় । 

পিয়াজের রস চুলের লাগালে চুল পড়ার সমস্যা দূর হবে । মেথি মেহেদী , ডিমের সাদা অংশ , ইত্যাদি চুলে লাগাতে পারেন করে চুলের গোড়া শক্ত হবে সিল্কি ভাব আসবে চুলে । এছাড়াও প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে । সবুজ শাকসবজি খেতে হবে ।

চুল পড়া বন্ধে আমলকী

  • স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি যত্ন চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সময়ের প্রয়োজন । রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এতে করে চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করবে । ঘরোয়া পদ্ধতিতে আমরা রাসুলের যত্ন নেব ।
  • নারকেল তেল এলোভেরা জেল আমলকির রস শিকাকাই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নেব । সম্পূর্ণ চুলে পেস্টটি মাখিয়ে ২৫ মিনিট রেখে দিব । তারপর শ্যাম্পু করে নেব এতে চুল নরম হবে , ঝলমলে হবে , খুশকি কমে যাবে ।
  • ডিমের সাদা অংশ আমলকির গুড়া , নারীকেলের তেল , লেবুর রস কয়েক ফোঁটা ভালো করে মিশিয়ে নেব ।২০-২৫ মিনিট মাথায় রেখে দেব । তারপর শ্যাম্পু করে নেব এতে করে চুল শক্ত হবে । বন্ধ হবে চুল পড়া । এটি কাজ করবে কন্ডিশনারের।
  • ভিটামিন ই ক্যাপসুল , নারিকেলের তেল , আমলকির গুঁড়া , মেহেদির গুড়া , অ্যালোভেরা দিয়ে পেস্ট বানিয়ে নেব । এরপর পেস্টটি চুলে মেখে২০-২৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নেব । শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়েনিতে হবে ।

চুলের যত্ন শ্যাম্পু করার পর

চুলের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করলে । দরকার বিশেষ যত্ন শ্যাম্পু করা চুলে । কিভাবে চুলের যত নিতে হবে শ্যাম্পু করার পর জেনে নেই চলুন ।
  • চুল মুছুন সতর্কভাবেঃ তুলনামূলকভাবে শক্ত গামছা ও তোয়ালের কাপড় । ঘষা লেগে চুল ভেঙ্গে যেতে পারে এগুলো ব্যবহার করলে । ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা ও দেখা দেয় অনেক সময় গোড়া থেকে । বেছে নিন সতীর নরম কাপড় চুল শুকানোর জন্য ।
  • চুল শুকানোঃ চুল শুকানোর জন্য গেঞ্জির কাপড় ব্যবহার করা যায় চুলের পানি তাড়াতাড়ি চুষে দেয় এবং চুলের ক্ষতিও করে না ।
  • শ্যাম্পুর পরে ব্লো ড্রায়ার ঠিক নয়ঃ হিট দেওয়া ক্ষতিকর চুলের স্বাস্থ্যের পক্ষে । চুল শুকনো ও ভঙ্গুর হয়ে যায় শ্যাম্পু করার পর চুল ব্লোড্রাই করলে । বেশি স্পর্শকাতর যেহেতু ভেজা চুল । অনেক বেশি প্রবণতা থাকে চুল ভেঙ্গে যাওয়ার । বিশেষ কারণ না থাকলে ব্লো ড্রাই না করাই ভালো শ্যাম্পু করার পরে ।
  • সিরাম ব্যবহার করুনঃ সিরামের জুরি নেই রুক্ষ ও শুষ্ক ভাব কমে চুল মসৃণ এবং কবুল করতে । চুলের ধরনের সঙ্গে মানানসই সিরাম ব্যবহার করুন শ্যাম্পু করার পর । অনেক বেশি মোলায়েম থাকবে সিরামের কারণে চুল । চুল দেখতে অনেক চকচকে লাগবে ।
  • চুল বাধা নিষেধঃ বেশি ভঙ্গুর হয় ভেজা চুল স্বাভাবিকের তুলনায় । চুল উঠে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে ভেজা চুল বাধলে শ্যাম্পু করার পর । মাথা চুলকায় ভেজা চুল বাধলে । খুশকিও হতে পারে । চুল বাঁধন পুরোপুরি ভাবে শুকানোর পর ।
  • আঙ্গুল দিয়ে চুলের জোট ছাড়ানঃ আঙ্গুল চালিয়ে ধীরে চুলের সব জট ছাড়িয়ে নিন ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহার করার আগে । বেশি টানাটানি করা যাবে না জট ছড়ানোর সময় চুলকে । সময় নিয়ে জট ছাড়ান ধীরে ধীরে । চিরুনি দিয়ে আছড়ে নিন চুল মোটামুটি শুকিয়ে গেলে ।

লেখকের মন্তব্য

সুন্দর চুলের অধিকারী হওয়ার জন্য খানিকটা বাড়তি যত্ন নিতে হয় । নিয়মিত শ্যাম্পু করা , চুলে তেল দেওয়া , কন্ডিশনার ব্যবহার করা ইত্যাদি । চুল আমাদের একটি মূল্যবান সম্পদ। চুল না থাকলে আমাদেরকে দেখতে একেবারে অসুন্দর লাগতো। এজন্য চুলের যত্ন নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। তাই কিভাবে চুলের যত্ন নিবেন এই আর্টিকেলে উপরে ভালোভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url