অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন জেনে নিন

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক আজকে আমরা অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন সে সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনার মনে যদি অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন জেগে থাকে তাহলে আজকে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন জেনে নিন
হাইপার সোমনিয়া বলা হয় সারাক্ষণ ঘুম পাওয়ার সমস্যা কে । অতিরিক্ত ঘুম অনুভব করেন এ রোগে আক্রান্ত যারা রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও । এতে করে আপনার কাজকর্ম ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় দৈনন্দিন জীবনে । এ সমস্যা হয় অতিরিক্ত মদ্যপান , মানসিক চাপ , ও বিষন্নতার কারণ ।

ভূমিকা

সবারই প্রয়োজন সুস্থ থাকার জন্য ভালো আর পরিপূর্ণ ঘুম । শরীরের শক্তি যোগায় সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে ঘুম । স্বাস্থ্য ঝকির কারণ হতে পারে যেমন পর্যাপ্ত না ঘুমানো তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমালে ডেকে আনতে পারে ডায়াবেটিস স ও বন্ধ্যাত্বের মত মারাত্মক কিছু রোগ । ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ঘুম । উৎকণ্ঠা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে নিয়ম মেনে না ঘুমালে ।


পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে হতে পারে ক্লান্তি বেশি ঘুমানোর ফলে । স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় অত্যাধিক ঘুমালে । হরমোন গুলো এর দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয় বিশেষ করে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণকারী । পেশি এবং স্নায়ু শক্ত হয়ে যায় অতিরিক্ত বিশ্রামের কারণে । এতে সমস্যা হয় শারীরিক চাপ নিতে ।

অতিরিক্তঘুম কেন হয়

অতিরিক্ত ঘুম কেন হয় তা জানার জন্য আসুন নিচে ভালো হবে পড়ে নিই। ঘুম থেকে উঠা খুব ভোরে । ব্যস্ত হয়ে যাওয়া নানা কাজে যেমন খাবার খাওয়া অফিসের জন্য তৈরি হওয়া কাজে ব্যস্ত থাকা সারাদিন ইত্যাদি । রাজ্যের ঘুম যেন চোখে নেমে আসে অফিসে দুপুরের খাবার পরে । অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে বেশিরভাগ সময় শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিবোধ থেকে ।

যেসব কারণে সব সময় ঘুম ঘুম লাগতে পারে নিচে তা দেয়া হলো ঃ

১.ঘুমের সময় ঠিক না রাখ
বেশিরভাগ মানুষেরই ঘুম পর্যাপ্ত হয় না বর্তমানে । অন্যতম কারণ সব সময় ঘুম পাওয়ার এটি । সঠিক সময়ে না ঘুমানো আরেকটি কারণ হতে পারে । তাই খুব জরুরী ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা এবং সঠিক সময়ে ঘুমানো এবং সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা গতিশীল করবে পর্যাপ্ত ঘুম আপনার প্রতিদিনের কাজগুলো কে ।

২.ভারি খাবার
ঘুম ঘুম লাগতে পারে আগে খাবার খেলে খাওয়ার পরে । বেশ খানিকটা সময় লাগে খাবার হজম হতে একই রকম সময় নেই না আবার সব খাবার হজম হতে । হজম হতে বেশি সময় নেই বেশি তেল মসলাযুক্ত খাবার , হাই প্রোটিন খাবার । ঘুম পেতে পারে খাবারে কার্বোহাইডেটের পরিমাণ বেশি থাকে ।খাবার দরকার নেই পেট খালি দেখে । আবার অতিরিক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো ।

৩.অসুস্থতার কারণে
নানা ধরনের লাইফ স্টাইল ডিজিজের শিকার বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই । অতিরিক্ত ঘুম পেতে থাকে এবং ক্লান্তি দেখা দেয় এসব রোগের কারণে । শরীরকে ভেতর থেকে নড়েবর করে দেয় মূলত এই অসুখগুলো । হলে নিয়ন্ত্রণে থাকে না ঘুম ও আপনার ।

৪.অবসাদ হতে পারে কারণ
অবসাদ দেখা দিতে পারে নানা কারণে । টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা আবার কারো কাছ থেকে পাওয়া মানসিক আঘাত ইত্যাদি হতে পারে । মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ঘুম নিয়ে আসতে পারে শুধু শরীর খারাপ হলেই যে অতিরিক্ত ঘুম পায় তা নয় । ঘুমকে বেছে নেই অনেকে অনেক ধরনের সমস্যার সমাধান হিসেবে ।

সারাদিন ঘুম পায় এনার্জির অভাব

ঘুমের সমস্যা দেখা যায় বর্তমান সময় অনেকেরই । সকালে ঘুম ভাঙতে চায় না আবার কারো কারো রাতের বেলা ঘুম আসতে চায় না । অসুস্থ হয়ে পড়ে হলে শরীর । অনেক ধরনের ওষুধ আজ বাজারে রয়েছে নিদ্রাহীনতার চিকিৎসার জন্য। দিনের বেশ কয়েকবার ঘুমিয়ে পড়তে পারেন কোন ব্যক্তি এনার্জির অভাবে । 


অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুমের বড় দিনের পর দিন ঘুম ভাঙতে চায় না । অস্থিরতা বিরক্তি ও উদ্যোগ হতে পারে লক্ষণ তাছাড়া মাথাব্যথা ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি ।

যে সব রোগ হতে পারে অতিরিক্ত ঘুমালে

পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন সুস্থ থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের । প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমান অনেকে । মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অতিরিক্ত ঘুমালে চিকিৎসকরা বলেছেন । সকলের প্রয়োজন ভালো এবং পরিপূর্ণ ঘুম । শরীরের শক্তি যোগায় ঘুম এবং সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে । স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের সময় না পাওয়া । 

কিন্তু বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে অতিরিক্ত ঘুমেও যেমন ডায়াবেটিস এবং বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত হতে পারে । ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয় ছেড়ো টনিন হরমোনের সাহায্যে । মাথা ব্যাথার অভিযোগ করে অনেকে অতিরিক্ত ঘুম শেরাটনীনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলার কারণে। দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে ক্ষুধামন্দা এবং তিব্বত তৃষ্ণা দেখা দিতে পারে যার কারণে মাথাব্যথা শুরু হয় ।

পিঠ প্রায়ই ব্যথা করবে অনেকক্ষণ ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে আপনার । পিসি গুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমানোর ফলে । ডিপ্রে সনের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ঘুম । এছাড়া মানসিক চাপের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে । হতে পারে ক্লান্তি বেশি ঘুমানোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে ।হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে অতিরিক্ত ঘুম । 

মানুষ সাধারণত জ্যাক ফুড এবং উচ্চকালীনযুক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে শরীর বেশি ক্লান্ত বোধ করার কারণে এর কারণে রক্তের সরকারের মাত্রা ফিরে পাওয়ার জন্য ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

কিসের লক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব

শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক অতিরিক্ত পরিশ্রম কিংবা ঠিকমতো ঘুম না হলে । শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার ইঙ্গিত দিতে পারে ঘুম ঠিক থাকলে আবার পরিশ্রম না করেও শরীর যদি সব সময় ক্লান্ত ও ঘুম ঘুম ভাব হয় । ক্লান্তিঅন্যতম বিভিন্ন কঠিন রোগের উপসর্গের মধ্যে । কিসের লক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব এটা জানার জন্য নিচের লেখাটা ভালোভাবে পড়তে হবে।

অবশ্যই সতর্ক হতে হবে কোন কারণ ছাড়াই যদি প্রায়ই শরীরে ক্লান্তিও ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয় । ক্লান্তিও ঘুম ঘুম ভাব কোন রোগের ইঙ্গিত দেয় তার নিচে দেওয়া হলঃ

১.স্লিপ অ্যাপ নিয়া
খুবই গুরুতর এক ব্যাধি স্লিপ এপনিয়া । এই রোগের কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় । আপনার বেশ কয়েকবার ঘুম ভাঙতে পারে রাতের ঘুমের মধ্যে এর কারণে । টেরো পান্না যা হয়তো অনেকে । আট ঘন্টা নিয়ম করে ঘুমালেও অজান্তেই রাতে বারবার ঘুম ভাঙ্গার কারণে তাদের সাথে ঘুম হয় না স্লিপ আপ নিয়াতে আক্রান্ত ব্যক্তি্র । 

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন , ধূমপান ত্যাগ করুন , ও ঘুমানোর সময় যাতে শ্বাসনালী পথ খোলা থাকে সেজন্য চিকিৎসা করে পরামর্শ নেন এই সমস্যার সমাধানের জন্য ।

২.শরীরে জ্বালানি না থাকলে
কম খাওয়ার কারণেও শরীরে ক্লান্তি আসে আবার খুব কম ঘুমের কারণে শরীর ক্লান্তি হয়ে পড়ে । আবার সমস্যা হতে পারে ভুল খাবার খেলেও । অলস অনুভূতি সৃষ্টি হয় এতে রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে যায় । রক্তের শর্করাকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে সুষম খাদ্য খেলে । যা জ্বালানি হিসেবে কাজ করে শরীরের । 

এজন্য নাস্তা গ্রহণ করুন নিয়মিত সকালের । এবং চেষ্টা করুন প্রতিটি খাবারে প্রোটিন ও জটিল কার্বোহাইডেট অন্তর্ভুক্ত করার । যেমন সকালের নাস্তার সাথে ডিম খান এবং সারাদিন ছোট খাবার ও স্লেক্স খান দিনভর এনার্জি পেতে ।

৩.রক্তস্বল্পতা
নারীদের অন্যতম প্রধান কারণ অ্যানিমিয়া । আইরনের ঘাটতি ঘটতে পারে মাসিকের কারণে । রক্তসল্পতা এবং আয়রনের অভাবজনিত জন্য আয়রনের পরিপূরক খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যেমনঃ সেলফিশ , চরবিহীন মাংস , লিভার এবং মটরশুটি খেলে রক্তস্বল্পতা করতে পারে ।

৪.বিষন্নতা
একটি মানসিক ব্যাধি বিষন্নতা । তবে বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় শরীরের । বিষন্নতার সাধারণ লক্ষণ খোদা কমে যাওয়া মাথাব্যথা ও ক্লান্তি । আরো ক্লান্ত করে তোলে যাব আপনাকে । ডাক্তারকে দেখান একটানা কয়েক সপ্তাহ বেশি ক্লান্ত বোধ করলে ।

৫.অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ
আপনাকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে অতিরিক্ত ক্যাফে ইন এর আসক্তিও । যা অস্থিরতা বাড়ায় হৃদপন্দন ও রক্তচাপ । কিছু মানুষের মধ্যে ক্লান্তি সৃষ্টি করে ক্যাপিনের জন্য । যে সকল জিনিসের ক্যাফেইন আছে যেমন চা , কফি , চকলেট এবং যেকোন ঔষধ গ্রহনের থেকে বিরত থাকুন ।

৬.ডায়াবেটিস
ডায়াবেটিসের লক্ষণও হতে পারে কোন কারন শারীরিক ক্লান্তি । স্বাভাবিকভাবে চিনির মাত্রা বেড়ে যায় এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের । শরীরে বাষ্প ফুরিয়ে যায় ফলে শরীরেপর্যাপ্ত খাবার থাকা সত্ত্বেও । ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এমনকি মুফতি ও মিলে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে ।

অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায়

অতিরিক্ত ঘুম হিসেবে ধরা হয় একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমালে । চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি রোগ হিসেবে দেখা হয় অতিরিক্ত ঘুমানো কে । বিজ্ঞানীরা এর একটি নামও দিয়েছেন হাইপার সোমনিয়া । এই রোগটি আছে বলে ধরা হয় ঘুমের আদর্শ সময় পার করার পরেও যারা আরো ঘুমাতে চায় ।

তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয় যেমনঃ
  • উদ্বিগ্ন থাকা কোন কিছু নেই
  • শক্তি কম থাকা শরীরে
  • দুর্বল থাকা স্মৃতিশক্তি
আমাদের অতিরিক্ত ঘুমাতে বাধ্য করে এগুলো নির্দিষ্টার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুমানো চাহিদা তৈরি করে ঘুমের মধ্যে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয় বলে । সামরিক অসুস্থতার কারণে ও অনেকের বেশি ঘুম হয়ে থাকে । অতিরিক্ত ঘুমানো চাহিদা ও দূরহয়ে যায় সেক্ষেত্রে শরীর সুস্থ হবার পাশাপাশি । 

এলাম ঠিক করে রাখুন আপনার যখন ঘুম থেকে ওঠা জরুরী তার উপর ভিত্তি করে । চেষ্টা করুন প্রতিদিন একই সময় ঘুম থেকে ওঠার । অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করতে চায়না । সকালকির নাস্তা সেরে ফেলা উচিত জেগে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে । 

এতে করে আপনি সারাদিনের জন্য কিছু বাড়তি শক্তি পাবেন এবং রাতে ভাল মতন ঘুমানোর সাহায্য করবে । আমরা বেশি ঘুমাই সাধারণত সপ্তাহের বন্ধের দিন । না করাই ভালো এই অভ্যাসটি । শরীর ও মন ভালো রাখতে সাহায্য করবে নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার ।

লেখকের মন্তব্য

পরিশেষে বলা যায় আসল কারণ খুঁজে বের করুন কোন প্রকার দুশ্চিন্তা বা হীনমন্যতার মধ্যে থাকলে । আগে ঠিক করুন এটি কিভাবে সমাধান করা যায় । কারণ আপনাকে ঠিকমতো ঘুমাতে দেবে না দুশ্চিন্তা আর হীনমন্যতা । অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষন জেনে নিন উপরের আর্টিকেল পড়ার মাধ্যমে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url